বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রপতি সফরে তথ্যপ্রযুক্তি খাত যা পেল

01 January, 1970

চীনা রাষ্ট্রপতির এই সফরকালীন সময়ে আইসিটি বিভাগের সাথে ২টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষর, ৩টি প্রকল্পে আর্থিক ঋণ সহায়তা চুক্তি এবং ১টি প্রকল্প কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। উভয় দেশের সরকার প্রধান কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ডেটা সেন্টার 'Tier-IV uptime institute certified data centre' নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘ঐতিহাসিক’ ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এসব চুক্তি ও সমঝোতার মধ্যে বিনিয়োগ চুক্তি ও সমঝোতা রয়েছে। এর ফলে চীনের তরফ থেকে বাংলাদেশে ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি এসেছে। শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে আইসিটি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রপতির এই সফরকালীন সময়ে আইসিটি বিভাগের সাথে ২টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষর, ৩টি প্রকল্পে আর্থিক ঋণ সহায়তা চুক্তি এবং ১টি প্রকল্প কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। উভয় দেশের সরকার প্রধান কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ডেটা সেন্টার 'Tier-IV uptime institute certified data centre' নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।

চীনের আইসিটি মিনিস্ট্রি এবং 'ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন অব চায়না' এর সাথে বাংলাদেশের আইসিটি ডিভিশনের পৃথক ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আরও ৩টি উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে ঋণ সহায়তা চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। 'ন্যাশনাল ইনফ্রা নেটওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট (ইনফো সরকার-৩)' প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সাল নাগাদ দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে।

'ইস্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি' প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ই-কমার্স, ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক স্থাপন ও নিরাপত্তা খাতে তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। 'মর্ডানাইজেশন অব রুরাল এন্ড আরবান লাইভস ইন বাংলাদেশ থ্রু আইসিটি' প্রকল্পের আওতায় শহর এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য স্মার্ট সিটি সলিউশন ব্যবহার করা হবে। 

এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের রাষ্ট্রপতির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে যে যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়, সেখানে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে আইসিটি খাতকে অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে আইসিটি খাতে চীনের আর্থিক বিনিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বড় প্রকল্পগুলোতে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি তিনি বলেন, 'চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের বিষয়ে একমত হয়েছি।' 

চুক্তি পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ১৫টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি হয়েছে সরকার টু সরকার পর্যায়ে। ১২টি লোন এগ্রিমেন্ট ও মিউচুয়াল এগ্রিমেন্ট। মোট ২৭টি। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, মেরিটাইম খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ইকোনোমিক ও টেকনিক্যাল কো-অপারেশন ও একটা ফ্রেইম ওর্য়াক হয়েছে রোড অ্যান্ড টানেলের ব্যাপারে। সুয়ারেস টার্মিনাল ব্যাপারে একটা এগ্রিমেন্ট হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও চায়নার রিলেশনটা বিশেষ করে ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে একটা লম্বা ইতিহাসের। নতুন কিছু ক্ষেত্রও এখানে আবিষ্কার হয়েছে। বিশেষ করে আইসিটি ক্ষেত্রে একটা বড় ধরনের ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইসিটি খাতে একটা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হবে বলে জানান শহীদুল হক। শহীদুল হক বলেন, প্রোডাকশন ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট হয়েছে। এই কাঠামোগত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে যে উৎপাদন ক্ষমতা, সেটি বাড়ানোর জন্য চাইনিজরা প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন এনটিটি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।